শনিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৬

বিচিত্র সব খাবার

উৎসবে তো অবশ্যই,তার পাশাপাশি শখের খাবারের মধ্যেও বৈচত্র আনা বাঙ্গালীয়ানার বড় প্রকাশ।আমাদের দেশে এমন উৎসব খুব কমই আছে, যে উৎসবে খাবার আলাদা উন্মাদনা তৈরি করে না।এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, একটা উৎসবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কী কী বিশেষ খাবার তৈরি হয়।
১. লাড্ডু-
মিষ্টির মধ্যে আর যাই থাকুক না কেন লাড্ডু অবশ্যই থাকবে।তবে এলাকাভেদে এই লাড্ডুও হয় ভিন্ন ধরনের। বেসনের বৃহৎ দানা দিয়ে তামিলনাড়ুতে তৈরি হয় বুন্দি লাড্ডু।ভারতের উত্তরপ্রদেশে বিখ্যাত মতিচুরের লাড্ডু।আবার পাঞ্জাব ও হিমাচলপ্রদেশে তৈরি হয় সুজি নারকেলের লাড্ডু।
২. কাজুকাটলি-
কাজুবাদাম দিয়ে তৈরি বরফির মতোমিষ্টিকে আমরা কাজুবরফি বলি। উত্তর ভারতে এই মিষ্টিকে আবার বলা হয় কাজুকাটলি। দীপাবলির গুডি হ্যাম্পারে মিষ্টির প্যাকেটে কাজুকাটলি থাকবেই। মূলত উত্তর ভারতের মিষ্টি হলেও দীপাবলিতে কাজুকাটলির স্বাদ উপভোগ করেন বাঙালি থেকে সকলেই।
৩. মুল্লু মুরুক্কু-
শুধু মিষ্টি নয়। দীপাবলিতে মিষ্টি মুখকে নোনতা স্বাদ দিতে থাকে মুখরোচক স্ন্যাক্সও। মুচমুচে চক্রাকৃতির মুরুক্কু এই ধরনেরই একটা স্ন্যাক্স। দক্ষিণ ভারতের খাবার হলেও চা এর সঙ্গী হিসেবে মুরুক্কু সারা দেশেই চলে। ডাল আর মাখন দিয়ে তৈরি এই মুরুক্কু আবার আচারে ডুবিয়ে খেতেও লাগে অসাধারণ।
৪. ওমাপোড়ি-
মূলত ভুজিয়ার তামিল সংস্করণ হচ্ছে ওমাপোড়ি। ময়দা আর চালের মিশ্রণ এবং জোয়ানের ফ্লেভার দিয়ে তৈরি হয় ওমাপোড়ি। কড়া তেলে ওই মিশ্রণকে ভেজে নেওয়া হয়।দীপাবলির সন্ধেতে চায়ের সঙ্গে ওমাপোড়ি আলাদা আনন্দ এনে দেয়।

৫. আধিরসম-
তামিলনাড়ুর এই বিশেষ মিষ্টি দীপাবলির খাবার হিসেবে পাকাপাকি জায়গা করে নিয়েছে। কথাতেই আছে,কে কত ভাল রাঁধুনি তা বোঝা যায় সে কত ভাল আধিরসম তৈরি করতে পারে, তা দিয়ে।চাল, গুড়, এলাচের মিশ্রণ প্রস্তুত করে তা কড়া করে ভেজে মিষ্টির রসে ফেলে তৈরি করা হয় আধিরসম।
৬. চোদ্দো শাক-
চৌদ্দ রকমের শাকের মিশ্রণে রান্না করা হয় চৌদ্দ শাক। বলা হয় এই শাকের মিশ্রণ এবং চোদ্দো রকমের আলোর ন্যায় অমঙ্গলকে দূরে সরিয়ে রাখে।
৭. খিচুড়ি ও লাবড়া-
নিরামিষের সাথে খিচুড়ি-লাবড়াই কোন কোন উৎসবে হয় মূখরোচক এক মূল খাবার।প্রায় প্রত্যেক উৎসবেই এখন দেওয়া হয় খিচুড়ি ও লাবড়া।
৮. প্রসাদী মাংস-
পিঠে তৈরিতে পুর হিসেবে ব্যবহৃত এই মাংসকে বলা হয় প্রসাদী মাংস।তবে এই মাংসে পেঁয়াজ, রসুন কিছুই দেওয়া হয় না।পিঠের ভিতরে মাংসের এক ব্যতিক্রমি স্বাদ ।
৯. ঘুঘরা-
গুজরাতিরা এক বিশেষ ধরনের নিমকি তৈরি করেন। ঘুঘরার ভিতরের পুর মূলত তৈরি হয় শাকসব্জি বা ফল দিয়ে। ঘুঘরা ছাড়াও আরও বিভিন্ন ধরনের নিমকি তৈরি করেন গুজরাতিরা। যেমন গাঠিয়া, মাঠিয়া, ঘারি, পাটিসা, শ্রীখণ্ড ইত্যাদি।
১০. লাপসি-
ময়দা, চিনি আর ঘি-এ র সংমিশ্রণে তৈরি লাপসি মূলত গুজরাত এবং উত্তর ভারতে প্রসিদ্ধ।

১১. আনারসা-
মহারাষ্ট্রে দীপাবলির সাত দিন আগে থেকে আনারসা তৈরি হতে থাকে। চাল আর গুড়ের মিশ্রণে তৈরি হয় আনারসা।
১২. শিরা-
যে কোন উৎসবে অল্প বিস্তর হালুয়া সব জায়গাতেই হয়ে থাকে।শিরা এমনই এক প্রসিদ্ধ হালুয়া। মূলত সুজি দিয়ে তৈরি এই হালুয়াতে থাকে বিভিন্ন ধরনের বাদাম এবং কিসমিস।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন